ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রা পুলিশের বাধার মুখে ভেঙে যায়। সোমবার সকালে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ এবং সাধারণ মানুষ রাজধানীতে জড়ো হন। তাদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্টের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং জল নিক্ষেপকারী যান প্রস্তুত রাখা হয়, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আন্দোলনের আয়োজকেরা আগে থেকেই পদযাত্রার অনুমতি চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হয়নি। এরপরও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেতে বাধা দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়া পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও সোমবারের ঘটনায় গুরুতর হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষ নতুন করে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনআন্দোলন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের মূল দাবিগুলো নিয়ে সরকার কী অবস্থান নেয় এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে কি না, সেটিই এখন পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।